মাশরাফি-সাকিবদের আয়ের পথ কমছে - সময়ের সংলাপ24
DHAKA WEATHER

Post Bottom Ad

খুব শীগ্রই আমরা Somoyersonglap24.com ওয়েবসাইট নিয়ে আসছি..

মাশরাফি-সাকিবদের আয়ের পথ কমছে

Share This

দুদিন আগে হঠাৎ করেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাথে আনুষ্ঠানিক স্পন্সরশিপ চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে মোবাইল অপারেটর রবি অজিয়াটা লিমিটেড। তাদের এমন সিদ্ধান্তে কিছুটা হলেও দিশে হারা বিসিবি। যদিও নতুন স্পন্সর পেতে খুব একটা কষ্ট হওয়ার কথা নয় দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থার। বিসিবির আয়ের পথ পরিস্কার থাকলেও, সামনে বিপদে পড়তে পারেন মাশরাফি বিন মর্তুজা- তামিম ইকবাল- সাকিব আল হাসানদের। কারণ বিসিবি যে তাদের আয়ের একটা পথ কমিয়ে দিচ্ছে!

রবি জাতীয় দলের মূল স্পন্সরের দায়িত্ব পালন করছিলো। ২০১৫ সালে তারা বিসিবির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। প্রথম দুই বছরের চুক্তি শেষে ২০১৭ সালে আরো দুই বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করে তারা। সেই চুক্তির মেয়াদ পূরণ করার আগেই হঠাৎ করে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটরটি।

ঠিক কী কারণে তারা চুক্তি বাতিল করলো; খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জাতীয় দলের কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার রবির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের সাথে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। যা রবির স্বার্থবিরোধী। এ কারণে ওই ক্রিকেটাররা যাতে রবির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি বাতিল করেন, রবির পক্ষ থেকে বিসিবির কাছে এই আবেদন করা হয়েছিলো। কিন্তু দীর্ঘদিনের চুক্তি হুট করে বাতিল করা সম্ভব হচ্ছিলো না। বিসিবি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিলেও রবি আর তার অপেক্ষা করেনি।

জাতীয় ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি ও তামিম ইকবাল চুক্তিবদ্ধ গ্রামীণফোনের সাথে। আর সাকিব আল হাসান বাংলালিংকের ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর। এ বিষয়ে আপত্তি ছিলো রবির এবং এ কারণেই তারা বিসিবির সাথে চুক্তি বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে কিছুটা হলেও বিপাকে পড়েছে বিসিবি এবং জানা গেছে, ভবিষ্যতে ক্রিকেটাররা যাতে মূল স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যক্তিগত স্পন্সরশিপের চুক্তি না করেন, বিসিবি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, 'ভবিষ্যতে ক্রিকেটাররা যাতে মূল স্পন্সরের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি না করেন, আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারি। রবির এ বিষয়ে বিশেষ বাধ্যবাধকতা ছিলো।'

এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার মানে হলো ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত চুক্তির পথ কিছুটা হলেও সংকীর্ণ হয়ে পড়বে। যা অবধারিতভাবে ভূমিকা রাখবে তাদের আয়-রোজগার কমে যাওয়াতেও।

রবির চাহিদা পূরণে ক্রিকেটারদের নির্দেশনাও দিয়েছিলো বিসিবি। কিন্তু মাশরাফি-তামিমকে নিয়ে গ্রামীণফোনের ও সাকিবকে নিয়ে বাংলালিংকের যে সক্রিয় ভূমিকা আছে, তা স্বল্প সময়ের নোটিশে বন্ধ করা সম্ভব ছিলো না। কারণ প্রতিষ্ঠান দুটি দেশের ক্রিকেটের তিন বড় তারকাকে তাদের সাথে যুক্ত করতে বিপুল অর্থ খরচ করেছে।

নিজাম উদ্দিন বলেন, 'সাকিব এরই মধ্যে তার চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। তামিমও হেঁটেছিলো তার পথে। কেবল মাশরাফির চুক্তিটি বিদ্যমান ছিলো। এ অবস্থায় রবির সিদ্ধান্ত আমাদের হতবাক করে দিয়েছে।'

স্পন্সরশিপের চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েই অবশ্য পার পাচ্ছে না রবি। নির্ধারিত মেয়াদের আগে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়ায় তাদের সাথে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বিসিবি। নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, বিসিবি এরই মধ্যে স্পন্সরশিপের পুরো টাকা আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

-সময়ের সংলাপ২৪/ডি-এইচ