সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক আবুল হাসনাত সিমুর হত্যাকারীদেরকে শনাক্ত করতে পুলিশের ভরসা এখন সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ। ফুটেজ পাওয়ার পরই পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাবে। মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ সিমুর ময়না তদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। এরপর বিকেলে শাহি ঈদগাহ ময়দানে প্রথম দফায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়। সিমুর কয়েকজন আত্মীয় লন্ডন থেকে দেশে ফেরার কারণে এশার নামাজের পর দরগাহ মসজিদে তার দ্বিতীয় দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পারিবারিক সিদ্ধান্তের পর সিমু হত্যার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হবে বলে জানান নিহতের বাবা আবুল হাসনাত। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে মিছিলের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে। ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও সে প্রায় দেড় বছর থেকে মিছিল-মিটিংয়ে যেতো না। সোমবার তাকে অনেকটা জোর করে মিছিলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়।
আবুল হাসনাত বলেন, আমাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ হলেও ছোটবেলা থেকে শহরতলীর বালুচরের আরামবাগ এলাকায় সপরিবারে বসবাস করছি। প্রায় ৭ বছর পূর্বে সিমুকে রাজনীতি থেকে ফেরানোর জন্য সিলেটের গোলাপগঞ্জে তাকে বিয়ে দেই। তার ঘরে পাঁচ বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
এদিকে সিমু মারা যাওয়ার পর পরই থেকে গা ঢাকা দিয়েছে ছাত্রদল নেতা নাবিল রাজাসহ তিনজন। নাবিলকে টার্গেট করেই চলছে পুলিশের তদন্ত। সে কাজী মেরাজ গ্রুপের অনুসারী।
মূলত দলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই আবুল হাসনাত সিমুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। নিহত সিমু সিলেট বিএনপির মিজান-জিল্লুর গ্রুপের অনুসারী। তার খুনিদের মধ্যেও একই গ্রুপের অনুসারী রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারের জন্য তাকে হত্যা করা হয়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন বলেন, ছাত্রদল নেতা সিমু হত্যার ঘটনায় থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি তার পরিবার। অভিযোগ পেলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ হামলার ঘটনার সময় সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফুটেজ পাওয়ার পর আসামি শনাক্ত করা সম্ভব হলে পুলিশ অভিযানে নামবে।
-সময়ের সংলাপ২৪/ডি-এইচ

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন