‘আয়নাবাজি’ থেকে খারাপ শিক্ষা নিচ্ছে মানুষঃ কাজী মারুফ - সময়ের সংলাপ24
DHAKA WEATHER

Post Bottom Ad

খুব শীগ্রই আমরা Somoyersonglap24.com ওয়েবসাইট নিয়ে আসছি..

‘আয়নাবাজি’ থেকে খারাপ শিক্ষা নিচ্ছে মানুষঃ কাজী মারুফ

Share This

গত ৩০শে মুক্তি পায় জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী পরিচালিত ‘আয়নাবাজি’। মুক্তির এতদিন পরেও সফলভাবে চলছে সিনেমাটি তবে প্রথম থেকেই আলোচিত হয়েছে এই ‘আয়নাবাজি’। এই সিনেমা নিয়ে দর্শক ভক্ত সমালোচকরা সকলেই বিভিন্ন রকম মতাদর্শ দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। তরুণ সিনেমাপ্রেমীদের কাছে আয়নাবাজি বেশ প্রশংসিত হয়েছে। তবে এই প্রসঙ্গে ভিন্ন মতো প্রকাশ করেন অভিনেতা চিত্রনায়ক কাজী মারুফ। তার মতে ‘আয়নাবাজি’ কোন ভাল সিনেমা নয়!

‘আয়নাবাজি’ সিনেমাটি অমিতাভের প্রথম সিনেমা হিসেবেই সিনেমাহলে কাজী মারুফ যান এটি দেখতে। তবে দেখার পর তার রায় ছিল অনেকটা এমন তিনি বলেন, ‘এ সিনেমায় ভালো কিছু শেখার নেই বরং খারাপ কিছু শেখার আছে। সিনেমা হলো সমাজের আয়না, আয়নাবাজি কি সমাজের আয়না? সমাজে যা কিছু ঘটে তাই সিনেমায় দেখানো হয়। এতে মানুষ সচেতন হওয়ার অবকাশ পায়। খারাপ ত্যাগ করে ভালোটা গ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত হয় দর্শক। সে কারণেই বলছি, আয়নাবাজি দেখে মানুষ খারাপটা গ্রহণ করলে অবাক হবো না।’

মারুফ জানান অমিতাভ রেজার মতো প্রতিভাবান বিজ্ঞাপ ন নির্মাতা একটি সিনেমা বানিয়েছে সেই কৌতূহল থেকেই তিনি সিনেমাটি দেখেন।

যদি শিক্ষামূলক কিছু সিনেমাটিতে নাই বা থাকে তাহলে কেন শহরের তরুণ প্রজন্ম ও বাকিরা ‘আয়নাবাজি’ দেখছে? প্রশ্নটির জবাবে কাজী মারুফ বলেন, ‘বুঝতে হবে গ্রে নামক একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা এ সিনেমার সঙ্গে জড়িত। তাদের টাকার অভাব নেই। গ্রে যাদের পাবলিক রিলেশনের কাজ করবে তাদের তো জয় জয়কার হবেই।’

কাজী মারুফ এখনকার সময়ের দর্শকদের মনোভাবনা ও চাহিদার কথা বলে জানান, ‘মূল ধারার সিনেমা কমপক্ষে ৫০টি হলে মুক্তি পায়। আর যে সব হলে মুক্তি পায় এসব হলে একটা শো হাউজ ফুল হতে ১১শ লোক লাগে। চারটা শো ফুল হতে ৪ হাজার ৪ শত লোক লাগে। যদি পঁচিশটা হল একদিনে ফুল হয় তবে ১ লাখ ১০ হাজার লোক এক দিনে সিনেমাটি দেখে। আর এসব দর্শক ফেসবুক চালাতে পারেন না। সিনেমা ভালো কি মন্দ হলে ফেসবুকে লিখতেও পারে না। অন্যদিকে সিনেপ্লেক্সে একটি শো ফুল হতে ২৫৬ জন লোক প্রয়োজন। তা হলে দেখেন ওদের এক শো সিনেপ্লেক্সের পাঁচ শোর সমান। এত ভালো যাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত ৫০-৬০টি হলে চলে হয়তো। একই সময় একশ হলে আয়নাবাজি চলুক তখন বলা যাবে কতটা ভালো যাচ্ছে। নিয়মিত যারা সিনেমা নির্মাণ করেন তাদের সিনেমা ৫০টির কম প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলে তারা অসন্মানিত বোধ করে।’


‘আয়নাবাজি’ স্ফলতার পেছনে চঞ্চল চৌধুরীর কৃতিত্ব নেই! এমনটাই ভাবেন কাজী মারুফ। তিনি বলেন, ‘ চঞ্চলের অভিনীত ‘মনপুরা’ সুপার হিট হলেও ‘আয়নাবাজি’ চঞ্চলের জন্য চলেনি। এটা চলেছে অমিতাভ রেজার জন্য। তারপরও একটি মহলের জন্য কিন্তু এটি ভালো সিনেমা। তবে সকল মহলের জন্য এটি ভালো সিনেমা নয়। সাতক্ষীরাসহ গ্রামঞ্চলে আয়নাবাজি ভালো যায়নি। শুধু শহর এলাকায় ভালো চলেছে। অমিতাভ রেজা আর একটা এ ধরনের সিনেমা নির্মাণ করে দেখুক কতটা ভালো চলে! আর সিনেমাটি যতটা ভালো চলছে বলা হচ্ছে আসলে কী তাই? কয়টা সিনেমা হলে আয়নাবাজি চলেছে? এটা কী ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’র মতো চলেছে কিংবা ‘লাভ ম্যারেজ’ সিনেমার মতো গ্রাম-বাংলায় দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে? আয়নাবাজি তা কিন্তু এখনও পায়নি। মূল কথা হচ্ছে, দেশের মানুষের প্রতি একজন পরিচালকের দায়বোধ কাজ করে। অমিতাভ রেজারও একটা দায়িত্ব ছিল। যেহেতু সে ভালো বিজ্ঞাপন নির্মাতা।’

এই অভিনেতা ‘আয়নাবাজি’র কিছু ভুল ধরিয়ে দিয়ে এর দর্শক ও ভক্তদের উদ্দেশ্য করে কিছু প্রশ্ন উপস্থাপন করেন।

১। সিনেমাতে হিরো চঞ্চল চৌধুরী প্রথম এন্ট্রিতেই দেখানো হয়েছে নেতিবাচক কাজ। সেখানে চঞ্চল বাজারের লোককে ঠকিয়ে মাছ নিয়ে আসেন। তাহলে কি আমরা মানুষকে ঠকিয়ে খাব?

২। কেন একজন নারী নির্যাতন মামলার আসামীর স্থলে তিনি ভাড়ায় জেল খাটেন? তাহলে কি নায়কের কি নারী নির্যাতন মামলা ভালো লেগেছে যে তিনি সেটাতে রাজী হয়েছেন? এবং সবার এমন করা উচিত?

৩। বাংলাদেশের কোনো সিনেমায় জেলের ভেতরে গান-বাজনা দেখানো হয় না। আর হলেও দুখের গান হয় অথবা কল্পনায় গান গাওয়া হয়। কোন রকম নাচ গান হাস্যউল্লাস দেখানো হয় না।

৪। সাজাপ্রাপ্ত আসামী কয়েদির গাড়ি কি কখনো রাস্তার কোথাও থামে?


৫। ‘সর্বনাশা ইয়াবা’ নিয়ে সেন্সর বোর্ড বলেছে, ‘ইয়াবা খাওয়ানো দেখানো যাবে না।’ আমরা যা টুকটাক দেখিয়েছি তাতে আমরা লিখে দিয়েছি ‘মাদক স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর’। কিন্তু এ সিনেমায় প্রকাশ্যে মদ পান করছেন কিন্তু কোথাও লেখা ছিল না ‘মাদক স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর’। তাহলে দর্শক কী শিখবে? মদ খাওয়া সাস্থের জন্য ভালো? তাহলে কেন এটি ছাড়পত্র পেলো? র কারণ এটি অমিতাভ রেজা বানিয়েছেন।

৬। সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক বলা হয়। এখানে সাংবাদিককে মদ পান করতে দেখানো হয়েছে। এখানে সাংবাদিকদের নীতিগতভাবে ছোট করা হয়েছে কারণ পার্থ বড়ুয়া সঠিক তথ্য দিয়ে কোন সংবাদ আনতে পারেনি।

৭। সচরাচর বস্তা পঁচা বাংলা সিনেমায় ভিলেনের কোনো রেহাই নেই। নায়ক বা ভিলেন যেই অন্যায় করুন মৃত্যু ঘটে বা জেল হয় কিংবা জেল হওয়ার পরও বাঁচিয়ে রেখে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। এ সিনেমার হিরো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অন্যায় করে গেছেন। কিন্তু সাজা হয়নি বরং অন্যায় করেও পার পেয়ে হাসছেন। এতে করে উৎসাহ পাচ্ছে অপরাধীরা।

৮। গোটা সিনেমাতেই পুলিশকে বোকা বানানো হয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষ পুলিশ সম্পর্কে কী ধারণা পাবে? যেখানে জঙ্গিবাদ একটা বড় ইস্যু সেখানে পুলিশকে বোকা বানানো কতটা যুক্তিসঙ্গত?


৯। মায়ের থেকে চঞ্চল অভিনয় শিখেছিলেন পড়ে মায়ের চিকিৎসার জন্যই তিনি জেলে যান ভাড়ায় থাকতে। কিন্তু মা মারা যাওয়ার পরেও কেন সে এই অপরাধী কাজ চালিয়ে গেলো?

১০। পুরো সিনেমাতেই নায়ক অভিনয় করেছেন সকলের সাথে। প্রেমিকার সঙ্গেও সে অভিনয় করেই যাচ্ছিলেন। এটা কতটা বাস্তবসম্মত? এর দ্বারা মানুষ অভিনেতাদেরও অসন্মান করবে। অথচ আয়না এতকিছু করার পর তার একবারো অনুশোচনা হয়ননি!- সময়ের সংলাপ24/ডি-এইচ

কোন মন্তব্য নেই: