শারীরিক সম্পর্কের ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ায় ভয় দেখিয়ে তিন বন্ধু পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করছে। ওই কিশোরী অবশেষে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার পরপরই নিহতের বাবা মামলা করতে চাইলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে তা সম্ভব হয়নি। আত্মহত্যার সাতদিন পর গণমাধ্যমের সহযোগিতায় রোববার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ গ্রেফতার করেছে প্রধান আসামিসহ দু'জনকে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে একই এলাকার ইছা ও নয়ন। উপজেলার গোলবুনিয়া গ্রামের ইব্রাহীম সিকদারের বখাটে ছেলে বরগুনা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ইমাম হোসেন ইছা প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত হাসি নামের এক কিশোরীকে। মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে, কখনও বাড়ির পাশের গুলবুনিয়ার বাজারে হাসিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় ইছা। একসময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কও গড়ে ওঠে। এরপর বাড়ির পাশের একটি নির্জন সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় হাসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ছবি তোলে ইছা। পরে সেই ছবি ফাঁস করে দেওয়ার কথা বলে প্রায়ই হাসিকে যৌন হয়রানি করতে থাকে ইছা। এরপর একদিন ইছার মোবাইল থেকে সেই ছবি নেয় ইছার ঘনিষ্ঠ সহযোগী নয়ন। এরপর হাসিকে মেনে নিতে হয় বখাটে নয়নের অনৈতিক দাবি। ছবি ফাঁস করে দেওয়ার কথা বলে নয়নও প্রায়ই তাকে যৌন হয়রানি করত। এরপর নয়নের মোবাইল ফোনের ছবি যায় একই গ্রামের মাহতাব আকনের ছেলে সুমনের কাছে। সেও হাসিকে যৌন নির্যাতন করে। এ অবস্থায় গত ২৯ আগস্ট রাতে ঘরের আড়ার সঙ্গে দড়িতে ঝুলে আত্মহত্যা করে হাসি। অভিযুক্ত নয়ন জানায়, ইছার মোবাইল থেকে সে হাসির ছবি চুরি করেছিল। ইছা হাসিকে মোবাইলের ছবি ফাঁস করে দেওয়ার কথা বলে যৌন হয়রানি চালিয়ে আসছিল। সে জানায়, নয়ন ও সুমনই হাসিকে নির্যাতন করেছে। পুলিশ সুপার বিজয় বসাক রোববার পুলিশ পাঠিয়ে গ্রেফতার করান ইছা ও নয়নকে।
Post Bottom Ad
খুব শীগ্রই আমরা Somoyersonglap24.com ওয়েবসাইট নিয়ে আসছি..
