ঈদের ছুটিতে বাড়ির পথে - সময়ের সংলাপ24
DHAKA WEATHER

Post Bottom Ad

demo-image

ঈদের ছুটিতে বাড়ির পথে

Share This
খুব শীগ্রই আমরা Somoyersonglap24.com ওয়েবসাইট নিয়ে আসছি..

স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার, পথ দেব পাড়ি তোমার/কাছে যাব ফিরে বারে বার—একটি মুঠোফোন কোম্পানির বিজ্ঞাপনচিত্রে ব্যবহূত এই গানটি যেন এখন রাজধানীবাসীর মুখে মুখে। কারণ সারা বছরের দিন গোনা শেষে এখন রাজধানীবাসী নাড়ির টানে পাড়ি জমাচ্ছেন শৈশবের স্মৃতিময়তার ভিটায়। সড়ক, নৌ, রেলপথ—সব পথ দিয়েই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন রাজধানীর লাখ লাখ মানুষ। তাদের চঞ্চলতায় সব টার্মিনাল এখন সরগরম। গত কয়েকদিন ধরে দিন-রাত লাইনে দাঁড়িয়ে সংগ্রহ করা টিকেটটি পকেটে পুড়ে, নতুন পোশাক ব্যাগবন্দি করে, চোখভরা আনন্দ নিয়ে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন এর বাসিন্দারা। যারা এখনো ঘরে ফেরার টিকেটটি হাতে পাননি, তাদের চেষ্টা চলছে অবিরাম।

eid+2

উন্নত জীবিকা, পড়ালেখাসহ আরও অনেক কারণে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ধীরে ধীরে হয়েছে শহরমুখী। শহরকে কেন্দ্র করেই তাদের আগামী দিনের সব পরিকল্পনা। তবুও বিভিন্ন উত্সব-পার্বণে নাড়ির টানে এসব মানুষের মধ্যে তৈরি হয় ঘরে ফেরার তাগাদা। মা-বাবা, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবসহ শৈশবের ফেলে আশা দিনগুলো স্মৃতির বারান্দায় পায়চারী করেন তারা। তাই সবাই ফিরে যায় নিজ শিকড়ে, আপন গ্রামে। আর ক’দিন পরই ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে গ্রামে যেতে চাইবে অসংখ্য শহরবাসী। স্টেশনেই রাত কাটিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষায় থেকে অধরা টিকেটখানা হাতে পেয়ে যে হাস্যোজ্জ্বল চেহারা দেখতে পাচ্ছি আমরা, তা দেখে মনে হয় সত্যিই এ ফেরা নাড়ির টানে ফেরা। বছরের অন্যান্য সময়ে বাড়ি যাওয়ার চেয়ে ঈদে বাড়ি যাওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য। কত কত আবদার, বায়না আর আশা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। মা-বাবা, ছোট ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন সবাই হয়তো বিভিন্ন আঙ্গিকে আপনাকে চাইছে, আপনি কবে ফিরবেন? আপনিও চাইছেন সব ঝামেলা শেষ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়ি যেতে। কেন এত কষ্ট সহ্য করে বাড়ি ফেরা? উত্তরে বিভিন্ন কথা আসতে পারে। যেমন মা-বাবা গ্রামে থাকেন, পরিচিত পরিবেশে ভালো লাগে সবার সঙ্গে ঈদ করতে ইত্যাদি। কিন্তু একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে আমরা দেখতে পাব ভিন্ন একটি কারণ। নগরায়নের প্রভাবে আমাদের গ্রামগুলো ধীরে ধীরে শহর কিংবা শহরের মতো হয়ে উঠছে সত্য। তবে বাঙালি জাতির মূল ভিত ও পরিচয় গ্রামীণ জনপদ ও তার জীবনযাপন। ফলে গ্রামে যাওয়ার এসব উপলক্ষকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না। ঈদ বলি আর পূজা বলি, সব ধরনের উত্সবকেন্দ্রিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতির সংস্কৃতি আমাদের ঐতিহ্যেরই অংশ। এ কারণেই হয়তো শহরের কৃত্রিম জীবনযাপনে অস্থির মানুষ ফিরে যেতে চায় নাড়ির টানে।

eid+3

অনেকেই অল্প টাকার চাকরি করেন। ফলে সাধ্যের মধ্যে বাড়ির সবার জন্য জামা-কাপড়সহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই কিনতে হয়। ঈদের বোনাস তাই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাড়ি ফিরে যাওয়ার আনন্দ পুরোপুরিই ভেস্তে যাবে যদি বোনাস না পাওয়া যায় সময়মতো। প্রিয়জনদের সঙ্গে বছরের এই সময় দেশের বাইরে থেকে অনেকে আসেন ঈদ উদযাপন করবেন বলে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে হাড়ভাঙা খাটুনিতে উপার্জন করে পরিবারের কাছে ফিরে আসেন তারা। আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকাকে বেগবান করতে তাদের অবদানকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না কখনো। পরবাসে থেকে দেশে ফিরে এলে তারাও চান আনন্দের এই ক্ষণগুলো উপভোগ করতে।

যারা ঈদের ছুটিতে ঢাকার বাইরে যাবেন কিংবা ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরে আসবেন, তারা সময় নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে পারেন; যাতে শেষ মুহূর্তের ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও ফেরিঘাটের যন্ত্রণাদায়ক ভিড় এড়িয়ে নির্বিঘ্নে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করা যায়। রেল, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে, যাত্রা এবং চলার পথে পাশের যাত্রী, অপরিচিত কোনো ব্যক্তি, হকার কিংবা ফেরিওয়ালার কাছে থেকে খাদ্যসামগ্রী, চা-সিগারেট, পান-বিড়ি, কলা-রুটি, চকলেট, শরবত, জুস, কোমল পানীয় বা অন্য কোনো খাবার গ্রহণ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অভিহিত করে তা গ্রহণ থেকে সতর্ক ও সাবধান থাকার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ হলে তারা নাগরিক সচেতনতার উপদেশ দিয়ে বলেছেন, শুধু পুলিশি নিরাপত্তাই যথেষ্ট নয়। ঈদের ছুটিতে যারা গ্রামের বাড়িতে যাবেন তারা শহরের বাসার দরজা, জানালা ঠিকমতো লাগানো হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নেবেন। রাতে বাসা বা দোকানের চারপাশে আলোকিত রাখার ব্যবস্থা করবেন। মূল্যবান দলিল ও মূল্যবান সম্পদ ব্যাংকের লকারে রাখতে হবে। ঈদের ছুটিতে যারা গ্রামের বাড়িতে যাবেন; তারা রাজধানীর বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকানপাটে যাতে চুরি, গণচুরি, গণডাকাতির মুখে না পড়েন সেজন্য আগে থেকেই কর্তব্যরত দারোয়ান, সিকিউরিটি গার্ডসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিপদের আশঙ্কা থাকলে সংশ্লিষ্ট থানা ও পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করবেন। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের ঈদের ছুটিতে বেশি ও পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

eid+4

মায়া-মমতা-আবেগ-অনুভূতিতে ভরা বাঙালি হূদয় সর্বদাই ঘরমুখী। দুয়ারে দাঁড়িয়ে আঁচলে চোখ মুছে যে প্রিয়জনকে রেখে জীবিকার খোঁজে এসেছিল এই শহরে, আজ ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে চিরচেনা সেই স্বজনদের মাঝে উপস্থিত হওয়ার আকুলতা তাই সব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে কর্মস্থলকে পিছনে ফেলে, নাড়ির টানে সম্মুখপানে টেনে নিচ্ছে সবাইকে। নাড়ির টানে আশৈশব কাটানো স্বজন-বন্ধু, আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে মিলনের জন্য গ্রামের বাড়িতে শত দুর্ভোগ সত্ত্বেও যাওয়ার জন্য মানুষ উতলা হয়ে ওঠে। বাড়ি ফেরার এই ব্যাকুলতা রুখে দেওয়ার সাধ্য কার!
Comment Using!!

Pages