ঘুষের ৫ লাখ টাকা নেয়ার সময় গ্রেফতার নৌপরিবহন অধিদফতরের সাময়িক বরখাস্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. এসএম নাজমুল হকের বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষীকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ও মামলার ৪ নম্বর সাক্ষী সৈয়দ সোহাগ এ অভিযোগে প্রকৌশলী নাজমুলের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এ ঘটনার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ড. নাজমুলের জামিন বাতিলের আবেদন করেছে আদালতে।
ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত আবেদন গ্রহণ করে ১ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেছেন। তবে সাক্ষীকে প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন নাজমুল হক।
জানতে চাইলে দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর যুগান্তরকে বলেন, ঘুষের মামলায় নৌপরিবহন অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী ড. নাজমুল হক জামিনে মুক্ত হয়ে সাক্ষীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। মামলা তুলে নেয়াসহ সাক্ষ্য না দিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নাজমুল তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে সৈয়দ সোহাগকে নানা ভয়ভীতি দেখান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
৪ সেপ্টেম্বর নিরুপায় হয়ে সৈয়দ সোহাগ রমনা থানায় জিডি করে বিষয়টি দুদককে লিখিতভাবে অবহিত করেন। জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় ড. নাজমুলের জামিন বাতিলের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। আদালতে করা জামিন বাতিল আবেদনে বলা হয়েছে, ফাঁদ মামলা পরিচালনার মাধ্যমে আসামি নাজমুল হককে ঘুষের টাকাসহ গ্রেফতার করে এ মামলা করা হয়।
আসামি ১৩ আগস্ট জামিনে মুক্ত হয়ে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ও মামলার সাক্ষী সৈয়দ সোহাগকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। যেহেতু আসামি জামিনের নিয়ম ভঙ্গ করে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন এবং আসামি বিপুল পরিমাণ অবৈধ টাকার মালিক বলে খারাপ লোকদের দিয়ে যে কোনো সময় বড় ধরনের অপরাধ করতে পারেন। জামিনে মুক্ত থাকার আদেশটি বাতিল হওয়া আবশ্যক। অন্যথায় অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের লোকসহ মামলার বাদী, সাক্ষীদের জীবন হুমকির সম্মুখীন হবে।
১৭ অক্টোবর এ ব্যাপারে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা ও মামলার বাদী সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদও রমনা থানায় নাজমুলের বিরুদ্ধে জিডি করেন। জিডিতে এ বিষয়ে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সৈয়দ সোহাগ তার জিডিতে বলেন, ১৩ আগস্ট জামিনে মুক্ত হয়ে ড. নাজমুল তার ০১৯৮৮৭৭৭৭৮৮ নম্বর মোবাইল থেকে ফোন করে নানা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
জানতে চাইলে ড. এসএম নাজমুল হক যুগান্তরকে বলেন, সৈয়দ সোহাগের সঙ্গে আমার কখনও কথা হয়নি, আলাপ হয়নি। তাকে আমি চিনিও না। আর তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
মামলার নথি ঘেঁটে জানা যায়, মেসার্স সৈয়দ শিপিং লাইন্স নামক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. হাসান ইমাম দুদকে অভিযোগ করেন যে, তাদের কোম্পানির একটি জাহাজের নকশা অনুমোদন ও আরেকটি জাহাজের নামকরণে অনাপত্তিপত্র দিতে গড়িমসি করছিলেন ড. নাজমুল হক। একপর্যায়ে তিনি এ কাজের জন্য ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এর মধ্যে প্রথম কিস্তির ৫ লাখ টাকা দেয়া হয়।
দ্বিতীয় কিস্তির ৫ লাখ টাকা দেয়ার কথা ছিল ১২ এপ্রিল। ওই টাকা নেয়ার জন্য নাজমুল হক সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে সেগুন রেস্টুরেন্টে হাজির হন। দুদকের টিমও ঘুষ লেনদেনের তথ্য আগাম জানতে পেরে সেখানে হানা দিয়ে ৫ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে আটক করেন নাজমুলকে।
ওইদিন দুপুরে দুদকের সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করেন। সেই থেকে নাজমুল কারাগারে ছিলেন। ১৩ আগস্ট তিনি ঢাকা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত থেকে জামিন পান। ১৮ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নাজমুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
-সময়ের সংলাপ২৪/ডি-এইচ
