নতুন পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ইমরান খান। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তার দলের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়- সুইডেনের মডেল অনুসরণ করে পাকিস্তানের উন্নয়ন ঘটাবেন তারা। তবে সম্প্রতি পাকিস্তানের ক্যাপিটাল টিভির আওয়াম নামের টক শোতে দেশটির বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট জাইঘাম খান বাংলাদেশকে অনুসরণ করার জন্য ইমরান খানকে পরামর্শ দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। উর্দু ভাষার ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।
জেনে নেয়া যাক, কোন কোন ক্ষেত্রে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।
১. বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জে বছরে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লেনদেন হয়, যেখানে পাকিস্তানে হয় মাত্র ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২. রপ্তানি খাতে বছরে বাংলাদেশের আয় প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। আর রপ্তানি থেকে পাকিস্তান আয় করে বছরে ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৩. জনগণের গড় আয়ুর দিক দিয়েও এগিয়ে বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭২ বছর, যেখানে পাকিস্তানিদের গড় আয়ু মাত্র ৬৬। ভারতীয়দের গড় আয়ুও বাংলাদেশীদের চেয়ে কম, মাত্র ৬৮।
৪. নারীদের গড় আয়ের দিক দিয়েও অনেকটাই এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এদিক থেকে ভারতীয়দের চেয়েও এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এর প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তৈরি পোশাক শিল্পের প্রভূত উন্নতির কথা।
৫. শিশু পুষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুধু পাকিস্তান বা ভারতের থেকেই এগিয়ে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সেরা। শুধু শিশু পুষ্টির দিক থেকেই নয়, বাংলাদেশ শিশু কম মৃত্যু হারের দিক থেকে ভারতের চেয়ে সিকিভাগ এবং পাকিস্তানের চেয়ে পুরো ৫০% এগিয়ে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি হাজারে মাত্র ৩৭.৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়।
৬. চাকরির স্থায়িত্বের দিক থেকেও বাংলাদেশের অবস্থান এই অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো। এদেশের কর্মজীবী মানুষের মধ্যে ৫৭.৮% স্থায়ী চাকরি করে থাকে, যা পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি। এদিক থেকে ভারতের অবস্থা খুবই খারাপ। দেশটিতে ৮০% কর্মজীবী মানুষেরই স্থায়ী কোনো চাকরি নেই।
৭. প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে। বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক যেসকল জনগণের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে তাদের ৩৪.১%-ই ২০১৭ সালে অনলাইনের মাধ্যমে ডিজিটাল ট্রানজাকশন করেছে। সেখানে গোটা দক্ষিণ এশিয়াতেই গড় ডিজিটাল ট্রানজাকশনের হার হলো ২৭.৮%।
৮. শিক্ষার দিক দিয়েও পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭১%, অপরদিকে পাকিস্তানে তা মাত্র ৫৫%।
৯. ২০০৬ সালের পর থেকে বাংলাদেশের জিডিপির অগ্রগতি পাকিস্তানের চেয়ে প্রতি বছরে ২.৫ শতাংশ বেশি। চলতি বছরেই বাংলাদেশের জিডিপি ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার মাত্র ১.১%, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে যা ২%। ফলে প্রতি বছরই বাংলাদেশের পার ক্যাপিটা ইনকাম পাকিস্তানের চেয়ে ৩.৩% বৃদ্ধি পাচ্ছে।
-সময়ের সংলাপ২৪/ডি-এইচ
