উড়ন্ত সূচনা মেয়েদের - সময়ের সংলাপ24
DHAKA WEATHER

Post Bottom Ad

খুব শীগ্রই আমরা Somoyersonglap24.com ওয়েবসাইট নিয়ে আসছি..

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইপর্বে গতকাল কমলাপুর স্টেডিয়ামে বেশ কয়েকবারই বাংলাদেশের মেয়েদের এমন উদযাপন দেখেছে বাহরাইন- বাফুফে

মনের ক্যানভাসে বেঁধে রাখার মতো চোখ ধাঁধানো সব গোল। বাংলার কিশোরীদের দূরপাল্লার নিখুঁত শট দেখে মুগ্ধ কমলাপুর স্টেডিয়ামে আসা হাজার খানেক দর্শক। ছোট ছোট পাসের সঙ্গে শৈল্পিক ফুটবল। আনুচিং মুগনি-আনাই মুগনিরা দুর্দান্ত। তাদের সামনে গতকাল দাঁড়াতেই পারেনি বাহরাইন। তাদের জালে ১৫ বার বল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু অফসাইড ও ফাউলের কারণে পাঁচটি গোল বাতিল হয়ে যায়। তাতে অবশ্য ক্ষতি হয়নি। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইপর্বে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের। বাহরাইনকে ১০-০ গোলে হারিয়েছে গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। আগামীকাল গ্রুপ 'এফ'-এর দ্বিতীয় ম্যাচে লেবাননের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দলটি।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যর্থ ছেলেরা। মেয়েদের ফুটবল ঘিরেই এখন স্বপ্ন। তহুরা খাতুন-মনিকা চাকমারা সবাই স্বপ্নের সারথি। ভুটানে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিততে না পারার কষ্টটা কিছুদিন ছিল। কিন্তু এই মেয়েরা ভেঙে পড়েনি। সব ভুলে নতুন শুরু তাদের। সোমবার নিজেদের ফুটবলের আসল ক্যারিশমা দেখিয়েছে শামসুন্নাহার-আনুচিংরা। বাহরাইনের জালে প্রথমার্ধে আটবার বল পাঠায় কিশোরীরা। কিন্তু অফসাইড ও ফাউলের অজুহাতে তিনটি গোল বাতিল করেন রেফারি। তাতে অবশ্য থামানো যায়নি বাংলার মেয়েদের। অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটতে থাকে তারা। প্রথম ৪৫ মিনিটে পাঁচবার গোলের আনন্দে মেতে ওঠে স্বাগতিকরা। এর মধ্যে তিনটি গোলই হয়েছে দূরপাল্লার শটে। হয়তো নতুন কৌশল বেছে নেন কোচ ছোটন। কারণ লেবাননও এই বাহরাইনের বিপক্ষে দূরপাল্লার শটে গোল করে। সেই ম্যাচ দেখেই এমন কৌশল ঠিক করেন বাংলাদেশ কোচ। প্রথমে চোখ ধাঁধানো গোলটি আসে আনাই মুগনির পা থেকে। ১১ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সের বাইরে থেকে সতীর্থকে উদ্দেশ্যে করে যে বাঁকানো শট নেয় মুগনি, তা বাহরাইন গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে চলে যায় জালে। চার মিনিট পর আবারও দূরপাল্লার শটে গোল। এবার অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে তার ডান পায়ের শট গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে জালে প্রবেশ করে। 

দূরপাল্লার শটের পর এবার পাসিং ফুটবলে গোল। বড় বোনের পর স্কোরশিটে নাম লেখায় ছোট বোন আনুচিং মুগনি। ১৯ মিনিটে বক্সের মধ্যে শামসুন্নাহার জুনিয়রের ছোট পাস খুঁজে নেয় আনুচিংকে। ডান পায়ের আলতো টোকায় বাহরাইন গোলরক্ষক জাহরা নিজার আলীকে পরাস্ত করে সে। ২৭ মিনিটে রিতু পর্ণা চাকমার জোরালো শট জালে প্রবেশ করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। দুই মিনিট পর শামসুন্নাহার জুনিয়রেরও গোলটি বাতিল হয়ে যায়। ৩৫ মিনিটে আবারও গোলের আনন্দে মেতে ওঠে বাংলাদেশ। বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়া রিতু পর্ণা চাকমার শট গোলরক্ষক ঠিকমতো ফেরাতে পারেননি। সামনে বল পেয়ে আনুচিং নিজের দ্বিতীয় গোল করে। একটু পর হ্যাটট্রিকের আনন্দে মেতে ওঠে খাগড়াছড়ির এ কিশোরী। কিন্তু এবারও রেফারির অফসাইডের বাঁশি। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে পঞ্চম গোল পায় বাংলাদেশ। এবার গোলের সহায়তায় আনাই মুগনি। তার ক্রসে শামসুন্নাহার জুনিয়রের হেড চলে যায় জালে।

বিরতির পরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে স্বাগতিকরা। ছোট ছোট পাসে আক্রমণ সাজায় রিতু-তহুরারা। তাদের আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খায় বাহরাইন গোলরক্ষক। দীর্ঘদিন পর শুরুর একাদশ থেকে বাদ পড়ে গোলরক্ষক মাহমুদা। তার পরিবর্তে খেলা রুপ্ন চাকমাকে কোনো কঠিন চ্যালেঞ্জেই পড়তে হয়নি। পড়বেই বা কী করে, বল তো বেশিরভাগ সময় ছিল বাহরাইনের সীমানাতেই। ৫৫ মিনিটে আবারও গোল। মাঝমাঠ থেকে ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনের ক্রস খুঁজে নেয় বদলি ফরোয়ার্ড সাজেদাকে। ঠাণ্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে এ ফরোয়ার্ড। দুই মিনিট পর আবারও গোলের জোগানদাতা আঁখি। তার জোরালো শট বক্সের মধ্যে পেয়ে শামসুন্নাহার জুনিয়র যে শট নেয়, তা প্রথমে বাহরাইন গোলরক্ষক ফেরালেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় নিজের দ্বিতীয় গোল করে ছোট শামসুন্নাহার। ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। শামসুন্নাহারকে বক্সের মধ্যে ফেলে দেয় দানা বাসেম। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। এর প্রতিবাদ করায় তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করে শামসুন্নাহার সিনিয়র। 

আগের ম্যাচে লেবাননের কাছে আট গোল হজম করে বাহরাইন। এদিন বাংলাদেশ তার চেয়ে বেশি গোল দেয়। ৭২ মিনিটে আবারও দূরপাল্লার শটে গোল। আবারও মারিয়া মান্ডা। বক্সের বাইরে থেকে বাংলাদেশ অধিনায়কের ডান পায়ের শট পোস্টের কোনা দিয়ে চলে যায় জালে। সব ফরোয়ার্ডই গোল পেয়েছে; বাদ যাবে কেন তহুরা। স্কোরশিটে নাম লেখায় ময়মনসিংহের এ কিশোরী। ৮১ মিনিটে সাজেদা বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়ে। এরপর বল চলে যায় তহুরার কাছে। গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল জালে পাঠায় এ ফরোয়ার্ড। বাকি সময়ে আর কোনো গোল হয়নি। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে তহুরা-মনিকারা।

-সময়ের সংলাপ২৪/ডি-এইচ